যুদ্ধের গোপনীয়তা ফাস করে দেওয়ার পরেও রাসূল (সাঃ) যাকে ক্ষমা করে দিলেন, জানুন কেন

যুদ্ধের গোপনীয়তা ফাস করে দেওয়ার পরেও রাসূল (সাঃ) যাকে ক্ষমা করে দিলেন। বিভিন্ন সহীহ রেওয়ায়াত থেকে জানা যায় যে, বদর যুদ্ধের পর মক্কা বিজয়ের কিছু আগে মক্কার Continue reading “যুদ্ধের গোপনীয়তা ফাস করে দেওয়ার পরেও রাসূল (সাঃ) যাকে ক্ষমা করে দিলেন, জানুন কেন”

আল্লাহর রাসূল আমার খুব ক্ষুদা আমাকে কিছু খেতে দিন (ইসলামিক গল্প)

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একজন লোক রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আল্লাহর রাসূল আমার খুব ক্ষুদা আমাকে কিছু খেতে দিন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমি ক্ষুধায় কাতর। তিনি তার স্ত্রীদের নিকট Continue reading “আল্লাহর রাসূল আমার খুব ক্ষুদা আমাকে কিছু খেতে দিন (ইসলামিক গল্প)”

রাসূল সা. বর্ণিত একটি হাদীসের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে সৌদি সংকট!

গত কয়েকদিন ধরেই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব। রাসূল সা. বর্ণিত একটি হাদীসের সংকটময় অবস্থার সাথে মিলে যাচ্ছে না তো এই সংকট?হযরত ছওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু Continue reading “রাসূল সা. বর্ণিত একটি হাদীসের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে সৌদি সংকট!”

জেনে নিন, এক যুবকের অদ্ভুত আবেদন হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) আমাকে যেনা করার অনুমতি দিন।

আবু উমামা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, এক তরুণ যুবক রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমাকে যেনা করার অনুমতি দিন। একথা শুনে উপস্থিত লোকজন তার নিকটে এসে তাকে ধমক দিয়ে বলল, থাম! থাম! রাসূল (ছাঃ) বললেন, তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর খুব নিকটে এসে বসল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে বললেন, তুমি কি তোমার মায়ের জন্য এটা (অন্যের সাথে যেনা করা) পসন্দ করবে? সে বলল, না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন! মানুষেরা এটা তাদের মায়েদের জন্য পসন্দ করবে না। তিনি বললেন, তোমার কন্যার জন্য কি তা পসন্দ করবে? সে বলল, না, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন! কোন মানুষ এটা তাদের মেয়েদের জন্য পসন্দ করবে না। তিনি বললেন, তুমি কি তোমার বোনের জন্য এটা পসন্দ করবে? সে বলল, না আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন! কোন ব্যক্তিই এটা তাদের বোনদের জন্য পসন্দ করবে না। তিনি বললেন, তাহ’লে তোমার ফুফুর জন্য কি এটা পসন্দ করবে? সে বলল, না আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন! কোন পুরুষ এটা তাদের ফুফুদের জন্য পসন্দ করবে না।

তিনি বললেন, তবে তোমার খালার জন্য কি এটা পসন্দ করবে? সে বলল, না আল্লাহর কসম। আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন! কোন মানুষ এটা তাদের খালাদের জন্য পসন্দ করবে না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি তার ওপর হাত রেখে দো‘আ করে বললেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি তার গুনাহ ক্ষমা করে দাও, তার হৃদয় পবিত্র করে দাও এবং তার লজ্জাস্থানকে হেফাযত করো’। এরপর ঐ যুবক আর কারো (কোন মহিলার) প্রতি

দৃষ্টিপাত করেনি (মুসনাদে আহমাদ হা/২২২৬৫; সিলসিলা ছহীহা হা/৩৭০)।

রাসূল (সা.) বলেন সৎ ও অসৎ বন্ধুর উদাহরণ আতর বিক্রেতা ও কামারের ন্যায়

দ্বীনি ভাইদের সাথে যেখানেই দেখা হয় প্রায় সবারই কাছে কোন না কোন আতর থাকে। অনেকে আবার নতুন কেনা আতর বের করে বলে, ভাই এটা কিনলাম, নতুন ফ্রেভার, দেখেন তো কেমন! এভাবে ওর থেকে একটু, ওর থেকে একটু লাগাতে লাগাতে চারদিক সুগন্ধময় হয়ে উঠে। গতকাল কাপড় ধোয়ার জন্য কাপড়গুলো বালতিতে নিচ্ছিলাম। প্রতিটি কাপড় রাখার আগে শুঁকে দেখছিলাম কোনটা ধুতে হবে। প্রতিটা কাপড় থেকেই অদ্ভুত সুন্দর সুগন্ধ বেরোচ্ছিলো। আমার ভাইদের নানান পদের আতরের মিশ্রণের সুগন্ধ। পক্ষান্তরে জাহিল ছেলেগুলোর কথা চিন্তা করুন। কারো গায়ে সিগারেটের গন্ধ, গাঁজার গন্ধ আরো কত কি! আর ঠিক এভাবেই বন্ধুত্বকে উপমা দিয়ে বুঝিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি বলেন.আবু মুসা আশআরি (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, ‘সৎ ও অসৎ বন্ধুর উদাহরণ আতর বিক্রেতা ও কামারের ন্যায়। আতর বিক্রেতা হয়তো তোমাকে একটু আতর লাগিয়ে দেবে, অথবা তুমি তার কাছ থেকে আতর ক্রয় করবে, অথবা তুমি তার কাছে আতরের ঘ্রাণ পাবে। আর কামার হয়তো তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে নয়তো তার কাছ থেকে খারাপ গন্ধ পাবে।’(বোখারি ও মুসলিম)শাইখ আব্দুর রহমান আরিফী (হাফিযাহুল্লাহ) একবার উনার এক লেকচারে একটা ঘটনা বলেছিলেন। হাসান আল বাসরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, তোমরা পৃথিবীতে ভাল মানুষদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে তৎপর হও, কারন এই সম্পর্কের কারণে হয়ত তোমরা আখিরাতে উপকৃত হতে পারবে।তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো কিভাবে?তিনি বললেন যখন জান্নাতিরা জান্নাতে অধিষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন তারা পৃথিবীর ঘটনা স্মরণ করবে এবং তাদের পৃথিবীর বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যাবে। তারা বলবে, আমি তো আমার সেই বন্ধুকে জান্নাতে দেখছিনা, কি করেছিল সে?

তখন বলা হবে, সেতো জাহান্নামে।তখন সেই মু’মিন ব্যাক্তি আল্লাহর কাছে বলবেন, হে আল্লাহ, আমার বন্ধুকে ছাড়া আমার কাছে জান্নাতের আনন্দ পরিপূর্ণ হচ্ছেনা।অতঃপর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা আদেশ করবেন অমুক ব্যাক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাতে।তার বন্ধু জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেল এই কারনে নয় যে সে তাহাজ্জুদ পড়ত, বা কুরআন পড়ত বা সাদাকাহ করত বা রোজা রাখত, বরং সে মুক্তি পেল কেবলই এই কারণে যে তার বন্ধু তার কথা স্মরণ করেছে। তার জান্নাতী বন্ধুর সম্মানের খাতিরে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল।জাহান্নামিরা তখন অত্যন্ত অবাক হয়ে জানতে চাইবে কি কারনে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল, তার বাবা কি শহিদ? তার ভাই কি শহিদ? তার জন্য কি কোন ফেরেশতা বা নবী শাফায়াৎ করেছেন?বলা হবে না, বরং তার বন্ধু জান্নাতে তার জন্য আল্লাহর কাছে অনুরোধ করেছে।এই কথা শুনে জাহান্নামিরা আফসোস করে বলবে হায় আজ আমাদের জন্য কোন শাফায়াৎকারি নেই এবং আমাদের কোন সত্যিকারের বন্ধু নেই, যার উল্লেখ আছে এই আয়াতগুলোতেঃ”অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই।” (২৬: ১০০-১০১)
একজন আলিম আল্লাহর রহমতের কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই বলেছিলেন ঈমানের কথা, এরপরই তিনি বলেছিলেন ইসলামী ভ্রাতৃত্বের কথা। তাই কাউকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসতে পারা, আল্লাহর জন্য এক হতে পারাটা আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের একটি। আল্লাহ্‌ আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন