শ্রীলংকায় বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম ভাংচুর – এ কেমন বর্বরতা

ড্রেসিং রুম ভাংচুর – শ্রীলংকায় বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম ভাংচুর হয়েছে। ত্রিদেশীয় সিরিজে স্বাগতিক লংকানদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয়ের পর এ ঘটনা ঘটে। খবর ইএসপিএন ক্রিকইনফোর।

প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত ড্রেসিং রুমের কাঁচ ভাঙা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে গ্রাউন্ড স্টাফ এই বিষয়ে লঙ্কান বোর্ডের কাছে রিপোর্ট করেছে। কে এমন করেছে বা কার কারণে এই ক্ষতি হয়েছে তা সম্পর্কে ধারণা না থাকাতে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্ত করতে মৌখিক অনুরোধ করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করবে প্রেমাদাসার গ্রাউন্ড স্টাফ। বাংলাদেশ দলের ম্যাচ জয় উদযাপনের সময় এমনটি হয়েছে। তবে এটা ইচ্ছাকৃত কিনা সেটাই খতিয়ে দেখা হবে।

শুধু তাই-ই নয় ম্যাচের শেষভাগে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্ত করতে আম্পায়াররা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখবেন। সেটা দেখার পরেই তারা সিদ্ধান্ত নেবেন কারো ওপর ব্যবস্থা নিতে হবে কিনা।

প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে মাত্র একটি বাউন্সার দেওয়া যায়। ইনিংসের শেষ ওভারে যখন টানটান উত্তেজনা, ঠিক ওই সময় পরপর দুটি বাউন্সকে আম্পায়ার বৈধতা ঘোষণা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে টাইগার শিবির। বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে গেল অধিনায়ক সাকিবসহ পুরো দল। সাকিব অভিযোগ তুললেন তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে। মাঠে মাহমুদউল্লাহও তখন ফিল্ড আম্পায়ারকে বিষয়টা বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। কেউ কোন কথা কানে তুলছে না।

অথচ ভিডিও ফুটেজ বলছে, সেটা আসলেই নো বল ছিল। তাই এক পর্যায়ে সাকিব মাঠ থেকে চলে আসার জন্য দুই ব্যাটসম্যানকে ইশারা করেন। পরে কোচ ওয়ালশসহ বিসিবি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে খেলা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই মাহমুদউল্লাহ’র বীরোচিত ইনিংসে ভর করে ১ বল বাকি থাকতেই ২ উইকেটে ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ।

সাকিবের যে শাস্তি হল … তবে খুশির খবর হল…

সাকিবের যে শাস্তি – বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের শেষ ওভারে যে উত্তাপ ছড়িয়েছিল তা হয়তো তখনি মিটমাট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এর রেশ রয়ে গেছে এখনো। আর এই ঘটনার পর ক্ষতি যা হওয়ার তার বেশির ভাগই বাংলাদেশের কাঁধে পড়তে পারত। নিষিদ্ধ হতে পারতেন দেশের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। তবে শুধু জরিমানা গুণে এই যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার। ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড সাকিবকে ২৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা আর একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়েছেন। ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছেন একাদশের বাইরে থাকা নুরুল হাসানও।

শেষ ওভারে আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাকিব। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা শেষ হতে না দিয়েই সাকিবের উত্তর, ‘ওটা তো ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিতও হতে পারে! দুইটাই বোঝায়।’ ম্যাচের শেষ ওভারের উত্তাপ, কথার লড়াইয়ে মাঠ ছেড়ে চলে আসার পরিস্থিতি তৈরি হলেও অপেশাদার আচরণের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারতেন সাকিব।

উত্তেজনার মুহূর্তে সোহানের সঙ্গে কথার লড়াই হয়েছিল শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়দের। টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য জানালেন, ম্যাচ রেফারি বুঝতে পেড়েছেন ঘটনার উৎপত্তি আসলে আম্পায়ারের ভুলে! যেহেতু আম্পায়ারদের ভুলের কারণেই এত কিছু, তাই সাকিব-নুরুলকে বেশি জরিমানা গুনতে হয়নি।

জরিমানা গুনে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচলেন সাকিব ….

ঐ সময় কী হয়েছিল মাঠে (ভিডিও)

এই ভিডিওটি দেখলেই বুঝতে পারবেন যে দোষ টি কার ছিল তাই ভিডিওটি দেখার অনুরুদ রইলো
এমন আগুনে ম্যাচ কবে দেখেছে প্রেমাদাসা? নানা বাঁক পেরিয়ে ম্যাচের একেবারে শেষ ওভারে ঘটনার ঘনঘটা। অপরাজিত Continue reading “ঐ সময় কী হয়েছিল মাঠে (ভিডিও)”

জেনে নিন, ম্যাচ শেষে নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে কি ঘটনা ঘটেছিল?

ম্যাচ শেষে নুরুল হাসান- শেষ ওভারে প্রয়োজন ১২ রান। মোস্তাফিজ স্ট্রাইকে। বোলার ইসুরু উদানা টানা দুটি বাউন্সার দিলেন। রানআউটও হলেন মোস্তাফিজ; কিন্তু কাঁধের ওপর দুটি বাউন্সারে একটাও ওয়াইড কিংবা নো ডাকলেন না আম্পায়াররা।

এরই তুমুল প্রতিবাদ করে ওঠেন সাকিব আল হাসান। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং রুবেল হোসেনকে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বলেন। ওই অবস্থায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা মাঠ ছেড়ে উঠে আসলে ওয়াকওভার পেয়ে যেতো শ্রীলঙ্কা।

সে ক্ষেত্রে বিদায় নিতো বাংলাদেশ। শেষ মুহূর্তে এমন মাথা গরম সিদ্ধান্ত অবশ্য ঠেকান টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। রিয়াদদের তিনি মাঠ থেকে উঠে আসতে দিলেন না। যদিও মাঠের মধ্যেই আম্পায়ার এবং শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের সঙ্গে তর্ক বেধে যায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের।

সাকিব যখন বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে দলকে বার বার উঠে আসতে বলছিলেন, তখন তার পাশে উত্তেজিত ভঙ্গিতে দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশ দলের একাদশের বাইরের আরেক ক্রিকেটার নুরুল হাসান সোহানকে। শেষ তিন বলে ১২ রান নিয়ে রিয়াদ যখন বাংলাদেশকে জয় উপহার দিলেন, তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো বাংলাদেশ।

মাঠে ছুটে এসে রিয়াদকে জড়িয়ে ধরলেন ক্রিকেটাররা। ক্রিজের মধ্যেই দিলেন নাগিন ড্যান্স। বাংলাদেশ দলের এই বিজয় উদযাপনে বাধ সাধে লঙ্কান ক্রিকেটাররা।

উত্তেজিত লঙ্কান ফিল্ডার কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে তর্কাতর্কি, এমনকি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যান নুরুল হাসান সোহান। সাকিব আল হাসানরা এসে তাকে নিভৃত করেন।

অবশেষে ফাসঃ যে কারণে বাংলাদেশের অনুশীলনে সহযোগিতা করছে না শ্রীলঙ্কা

গতকাল অনুশীলন না করেই বিরক্ত নিয়ে হোটেলে ফিরে যায় বাংলাদেশ দল। সিংহলিজ ক্রিকেট ক্লাবের নেটে যে ধরনের উইকেট চাওয়া হয়েছিল, তা মোটেও সেধরনের না হওযায় অনুশীলন না করেই ফিরে যান মুশফিকরা। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের (শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট) অসহযোগিতায় বিরক্ত প্রকাশ করেন ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। ফাইনালের আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তার আগে কতটুকু কী অনুশীলন করতে পারবে দল, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগে প্রেমাদাসার ফ্ল্যাড লাইটে অনুশীলন করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের সে অনুরোধ রাখেনি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। যে ধরনের উইকেট চাওয়া হয়েছিল অনুশীলনের জন্য, সেটাও প্রস্তুত করছে না তারা। যা নিয়ে হতাশ ও বিরক্ত বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।

ধারণা করা হচ্ছে, ইচ্ছা করেই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড অনুশীলনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলকে সহযোগিতা করছে না। গত মাসে বাংলাদেশ সফর করে যায় শ্রীলঙ্কা দল। ওই সময় অনুশীলনে সহযোগিতা না করার জন্য বিসিবির বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ করেছিল শ্রীলঙ্কা দল। ধারণা করা হচ্ছে, এবার তারই প্রতিশোধ নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা।

শুধু প্রতিশোধ নেওয়াই নয়, এরমধ্যে একটা কূট চালও আছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই চাল চালছেন হাথুরুসিংহেই। তিনি চান না বাংলাদেশ ফাইনালে খেলুক। তিনি চাইছেন শ্রীলঙ্কা ভারত ফাইনাল হোক। আর তাতে তিনি চলে আসার কারণেই বাংলাদেশ দলের শোচনীয় অবস্থা হয়েছে- এটা যেমন প্রমাণ হবে, তেমনি দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রীলঙ্কা দলের যে আমুল পরিবর্তন হয়েছে- সেটাও প্রমাণ হবে। এতে কোচ হিসেবে মাথা উঁচু হবে হাথুরুর।

বুদ্ধিমান হাথুরুর পরামর্শ মতোই কাজ করছে শ্রীলঙ্কা। আর এ কারণে পেমাদাসার অনুরূপ উইকেটে অথবা প্রেমাদাসায় অনুশীলন করতে দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশকে। ভারত শ্রীলঙ্কা ফাইনাল খেললে বাণিজ্যিক দিক দিয়েও বেশ লাভ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের (শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট)। এটাও একটা কারণ হতে পারে।