খুলনার মাটিতে বেড়ে উঠছে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সেই তীন গাছ

পবিত্র কোরআনের ৩০তম পারার ৯৫ নম্বর সূরার প্রথম আয়াত وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ ‘ওয়াত্তীনি ওয়াযাইতূনি। বর্ণিত সূরায় আল্লাহতায়ালা তীন গাছের নামে শপথ করেছেন। সূরার প্রথম শব্দ তীন অনুসারে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে- সূরা আত-তীন। তীনের বাংলা অর্থ আঞ্জীর বা ডুমুর।মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় এ ফলের উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে করা হয়।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। আফগানিস্তান থেকে পর্তূগাল পর্যন্ত এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে। এর আদি নিবাস মধ্যপ্রাচ্যে। তবে শখের বসে খুলনার মাটিতে একটি তীন গাছ মিসর থেকে এনে লাগানো হয়। বর্তমানে খুলনার মাটিতে বেড়ে উঠছে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সেই তীন গাছ। ধরছে ফলও।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমার দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স পরিচালিত সোসাইটি অব সোস্যাল রিফর্ম স্কুলের আঙ্গিনায় ২০১১ সালে সোসাইটি অব সোস্যাল এন্ড টেকনোলজিক্যাল সার্পোট কুয়েতের প্রাক্তন মহাপরিচালক আবু মুহাম্মদ আসসাওয়াদফি আল ফিকাহ মিসর থেকে এই গাছটি আনেন। গাছটি রোপন করেন দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স এর পরিচালক সুফি সালাইমান মাসদ।

দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সানোয়ার হুসাইন বলেন, খুলনার আবহাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই গাছটি অন্যান্য গাছের মতোই বেড়ে উঠেছে। গাছটিতেও ফলও ধরেছে। গাছটির ফল আমি খেয়েছি। এটি অনেক সুস্বাদু। তার দাবী, এ গাছটি বাংলাদেশে এই একটিই আছে।

সোসাইটি অব সোস্যাল রিফর্ম স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সূরা তীন যে গাছের নামে সেই তীন গাছ এ স্কুলে থাকায় অনেকে এটি দেখতে আসেন। বিশেষ করে যখন ফল ধরে তখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ থাকে গাছটির প্রতি বেশি। এছাড়া অনেক দর্শনার্থী গাছটির খবর পেয়ে দেখতে আসেন।

জানা যায়, আঞ্জির হচ্ছে ডুমুর জাতীয় এক ধরনের ফল। এর গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus carica । ফাইকাস গণভুক্ত প্রায় ৮০০ প্রজাতির মধ্যে আঞ্জির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। এই ফলের আকার কাকডুমুরের চেয়ে বড়; এটি একটি জনপ্রিয় মিষ্টি ও রসালো ফল।

হিন্দি, মারাঠি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় এই ফলকে আঞ্জির বলা হয় এবং আরবি ভাষায় এর নাম তীন। এ গাছ ৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। পবিত্র কোরআনে এই ফলকে আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত বা অনুগ্রহরূপে ব্যক্ত করা হয়েছে। বাইবেলেও এই ফলের কথা উল্লেখ রয়েছে।

নবীজীকে (সা.) খুন করতে এসে যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এক ডাকাত

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে খুন করতে এসে উল্টো ইসলামের পতাকা তলে নিজেকে আত্মসমর্পন করেছিলেন এক ডাকাত।

মূলত নবীজী (সা.) একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এমন সময় দাসুর নামের একজন ডাকাত তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। এরপর শোরগোল করে সে মহানবী (সা) কে ঘুম থেকে জাগাল। মহানবী (সা) ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর উপর উদ্যত। ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠলো, ‘এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?’

মহানবী(সা) ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘আল্লাহ’। শত্রু দাসুর মহানবী (সা) এর এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের আল্লাহ শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি।

মহানবী (সা) তার তরবারি তুলে নিয়ে বললেন, ‘এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে, দাসুর? সে উত্তর দিল কেই নেই রক্ষা করার।’ মহানবী (সা) বললেন, ‘না, তোমাকেও আল্লাহই রক্ষা করবেন।’ এই বলে মহানবী (সা) তাঁকে তার তরবারি ফেরত দিলেন এবং চলে যেতে বললেন।

বিস্মিত দাসুর তরবারি হাতে চলে যেতে গিয়েও পারল না। ফিরে এসে মহানবীর হাতে হাত রেখে পাঠ করলঃ ‘লা- ইলাহ ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’