টাখনুর ওপর কাপড় কি শুধু নামাজের সময়?

অনেক সময় দেখা যায় নামাজের জামাত শুরু হওয়ার আগে মুসল্লিদের কেউ কেউ নিজেদের পায়জামা, প্যান্ট, লুঙ্গি ইত্যাদি টাখনু গিরার ওপর তুলে নিচ্ছেন বা ইমাম সাহেব বলে দিচ্ছেন, ‘কাপড় টাখনুর ওপর তুলে নিন’। এতে মনে হয়Ñ শুধু নামাজের সময়ই কাপড় টাখনুর ওপর তুলতে হবে; অথচ বিষয়টি শুধু নামাজের সাথে সম্পৃক্ত নয়। পুরুষের জন্য নামাজের ভেতরে-বাইরে সর্বাবস্থায় কাপড় টাখনুর নিচে পরিধান করা কবিরা গুনাহ। এ বিষয়ে হাদিসে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে। নিচে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলোÑ

হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, লুঙ্গির যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে তা জাহান্নামে যাবে। [বুখারি : হাদিস নং- ৫৭৮৭]

হজরত আবু যর রা. বলেন, রাসুল সা. বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা তো বলবেনই না বরং তাদের দিকে তাকিয়েও দেখবেন না। এমনকি তিনি তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন না বরং তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারা কারা? তবে এরা তো ধ্বংশ, তাদের বাঁচার কোনো রাস্তা নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা তিনবার বলেছেন। তারা হলো ক. যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরে। খ .যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম খেয়ে ব্যাবসার পণ্য বিক্রি করে। গ. যে ব্যক্তি কারো উপকার করে আবার খোটা দেয়। [মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ]‌।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ. থেকে বর্ণনা করে হজরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, লুঙ্গির যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে তা আগুনে প্রজ্জ্বলিত হবে। [বুখারি]

রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, পুরুষের শরীরের যে কোনো পোশাক টাখনুর নিচে ঝুলে পড়া হারাম। পোশাক যদি টাখনুর নিচে ঝুলে যায়, তাহলে টাখনুর নিচের ওই অংশকে জাহান্নামের অংশ বলে ধরা হবে। [বুখারি]

হজরত জাবের ইবনে সুলাইম রা. হতে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পড়ার ব্যাপারে সাবধান হও। কারণ, তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ অহংকার করাকে পছন্দ করেন না। [আবু দাউদ]

ইবনু উমার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, অহংকারবশত যে ব্যক্তি তার বস্ত্র বা কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দিকে ফিরেও তাকবেন না। উম্মে সালমা রা. বললেন, তাহলে মহিলারা তাদের আঁচলের ব্যাপারে কি করবে? তিনি বললেন, তারা পায়ের গিঁট থেকে এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে। উম্মে সালমা রা. বললেন, এতে তো তাদের পা অনাবৃত হয়ে পড়বে। রাসুলুল্লাহ সা. বললেন তাহলে তারা একহাত পরিমাণ নিচে পর্যন্ত ঝুলতে পারে, এর চাইতে বেশি যেন না ঝুলায়। এ হাদিসটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। [আবু দাউদ : হাদিস নং- ৩৪৬৭, ৪০৮৫, তিরমিজি : হাদিস ১৭৩১]

উল্লেখিত ছয়টি হাদিসে টাখনুর ওপর কাপড় পরিধানের ক্ষেত্রে সাধারণ বিধান বর্ণিত হয়েছে। এখানে বলা হয়নি যেÑ শুধু নামাজের সময় টাখনুর নিচের কাপড় ওঠাতে হবে বা টেনে পড়তে হবে। তাই পরিধেয় পোশাক যেমনÑ পায়জামা, প্যান্ট, লুঙ্গি ইত্যাদি সর্বাবস্থায় টাখনুর ওপরে পরিধান করা আবশ্যক। বিষয়টি নিজে অনুধাবন করে আমল করুন এবং অন্যকে এর কঠিক শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করুন। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।

বি.দ্র. : মহিলারা সর্বাবস্থায় টাখনুর নিচে কাপড় পরবে।

বিয়ের পর নারীরা বাবা-মার কথা মানবে না স্বামীর

বিয়ের আগে মেয়ের জন্য বাবা মায়ের কথা মেনে চলা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের পরও মানা গুরুত্বপূর্ণ তবে বিয়ের পর সে একটা নতুন পরিবারে যায়। এ দু’পক্ষের মধ্যে যদি কোনো বিষয়ে মতভেদ হয় তবে দেখতে হবে কোন পক্ষ কুরআন ও সুন্নাহ অবলম্বন করছে। স্বামী কুরআন মেনে নির্দেশ করছে না মা বাবা। এর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে দু’জনই যদি নিরপেক্ষ থাকেন। দু’পক্ষই কুরআন হাদিস মানছেন। তাহলে চেষ্টা করতে হবে দুই পক্ষকেই বিষয়টি মানিয়ে নেয়ার। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও যদি দুই পক্ষের মতভেদ চলতে থাকে, আবার দুই পক্ষই সঠিক পথে থাকে এ অবস্থায় স্ত্রীকে স্বামীর পক্ষাবলম্বন করতে হবে। কারণ এটা স্ত্রীর নিজের পরিবার বাবা মা’র পরিবার নয়।সবচেয়ে ভালো হয়, কৌশল অবলম্বন করে বাবা মা ও স্বামী দুজনের মধ্যে আপোসে আনার চেষ্টা করা। সেটা যদি শেষপর্যন্ত অসম্ভব হয় এবং দুই পক্ষই কুরআন সুন্নাহর বিধানের মধ্যে থেকেই বিরোধ করে এবং আপনাকে বাধ্য হয়ে একটা পক্ষ অবলম্বন করতে হয় তবে আপনার স্বামীর কথাই মানতে হবে। তবে দুই পক্ষকেই সন্তুষ্ট করতে পারলে ভালো।

মাদ্রাসা পড়ুয়া এক কিশোরের প্রশ্ন

প্রশ্ন >> আমি এখন মাদ্রাসায় পড়ি।ঠিক এই বছরই ভর্তি হলাম মাদ্রাসায়। যখন আমি নতুন নতুন এই মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিলাম তখন আমার সাথে আমার এই পাড়া-প্রতিবেশির মেয়েরা সবাই মিশত।একই সাথে প্রতিদিন মাদ্রাসায় যেতাম।হে,ওরা ছিল আমার ক্লাসের মেয়েরা।কিন্তু এখন তারা আমার সাথে মিশতে চায়না।আমার কাছ থেকে তারা আলাদা হয়ে যেতে চায়। তো এখন তাদের প্রতি আমার কিরকম আচরণ  বা ব্যবহার করা উচিত যাতে করে আমি আর ওরা মিলেমিশে থাকতে পারি।

উত্তর >> বয়ঃসন্ধি কালে (১২-১৪ বৎসর বয়সে ) ছেলে ও মেয়েদের মাঝে মানসিক ও শারীরিক অনেক পরিবর্তন আসে… এ সময় ছেলেদের শরীর হটাত করেই বড় হয় কণ্ঠ স্বর পরিবরতন হয়… ছেলেদের স্বপ্ন দোষ বা বীর্যপাতের মত ঘটনাও ঘটে থাকে… মেয়েদের ও শারীরিক পরিবরতন হয় , ঋতু স্রাব হয়ে থাকে… উভয়ের মধ্যে সাবালকের লক্ষন প্রকাশ পায় এবং প্রক্রিতি গত ভাবে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বা কউতুহল জেগে উঠে…। এসময় নারীদের মধ্যে বেশি লজ্জা বোধ জাগ্রত হয় তাই তারা পুরুষদের একটু এড়িয়ে চলে… এটা প্রাক্রতিক ভাবেই হয়ে থাকে… তাই এ বিষয়ে মাথায় রেখে সেভাবেই ছেলে মেয়েদের চলাফেরা করা উচিত ।… স্বাভাবিক ভাবেই কথা ব্লুন… তবে একসাথে চলাফেরা এ সমাজে অনেকের চোখে খারাপ লাগতে পারে। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ও মেয়েদের পর্দা করা ছাড়া একসাথে চলাফেরা করা উচিত নয়।

কেউ আপনাকে অপমান করার চেষ্টা করলে করুন এই ৬টি কাজ

আপনি একলা মানুষ পৃথিবীতে সবাইকে খুশি রাখতে পারবেন না আর এটা খুবই স্বাভাবিক। মানুষ হয়ে জন্মেছেন যখন, তখন পৃথিবীতে কাউকে ভালো লাগবে আবার কাউকে খারাপ। কারো আপনাকে ভালো লাগবে, কেউ আবার আপনাকে খুবই অপছন্দ করবে। সমস্যা হচ্ছে, কেউ যদি আপনাকে অপছন্দ করে থাকেন তাহলে বিনা কারণেই আপনার সাথে ঝামেলা করার চেষ্টা করবেন। পিঠ পিছে শত্রুতা করবেন, ষড়যন্ত্র করবেন, আবার অকারণে ঝগড়া বাঁধাবার চেষ্টা করবেন। আর এমন মানুষ আপনি আত্মীয়স্বজন হতে শুরু করে বন্ধু বান্ধব, কর্মক্ষেত্র ইত্যাদি সব স্থানেই পাবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনাকে অপছন্দ করে এমন কেউ অপমান করার চেষ্টা করলে কী করবেন? ১)মেপে কথা বলুন কথা হচ্ছে এমন একটা জিনিস যেটা একবার বলে ফেললে ফিরিয়ে নেয়ার কোন উপায় নেই। যারা আপনাকে অপছন্দ করেন, তারা কিন্তু এই অপেক্ষাতেই থাকেন যে কখন আপনি কী বলবেন। তাই মুখ খুলুন খুব বুঝেশুনে। ২)অন্যের আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নেই, কিন্তু নিজের আছে যারা আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে চায়, তাঁদেরকে আপনি ভালো বানাতে পারবেন না। কিন্তু হ্যাঁ, নিজের আচরণ অবশ্যই আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। যত যাই হোক, উত্তেজিত হবেন না। মাথা খুবই ঠাণ্ডা রাখুন। তারা যেমন আচরণ করবে আপনার সাথে ঠিক তাঁর বিপরীত আচরণ করুন। ৩) কিছু ব্যাপার দেখেও না দেখা কেউ আপনাকে অপমান করার চেষ্টা করছে, কিংবা অকারণেই ঝামেলা করার চেষ্টা করছে? তাঁদের এই আচরণগুলো দেখেও না দেখার ভাব করুন। কেউ আপনাকে তখনই অপমান করতে পারবে যখন তাঁর কৌশল বা চেষ্টা আপনি দেখবেন এবং প্রতিক্রিয়া দেখাবেন। যা আপনি দেখতেই পান নি, সেই জিনিস কীভাবে আপনাকে আঘাত করবে? এমন ভাব করুন যেন তাঁদের অপমান করার চেষ্টা আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। ৪) সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না একজন ভালো মানুষ কখনো অন্যকে অপমান করার কথা চিন্তা করে না। এগুলো কেবল তাঁরাই চিন্তা করে যাদের মন খুবই ছোট। তাই কেউ আপনাকে অপমান করার চেষ্টা করছে বলে নিজেকে দোষী ভাববেন না, বা তাঁর কোন কাজ ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। জানবেন যে সমস্যা তাঁদের। ৫) বড় হাতিয়ার ভালো ব্যবহার কেউ খারাপ ব্যবহার করলেই কি পাল্টা খারাপ ব্যবহার করতে হবে? আপনি তো তাঁদের মত নন, আর তাই তাঁদের মত আচরণও করবেন না। বরং সম্ভব হলে খুবই ভালো ব্যবহার করুন। এতে হয়তো তারা একটু হলেও লজ্জা পেতে পারেন আর অন্যায় চেষ্টা থেকে সরে আসার চেষ্টা করতে পারেন। ৬) নিজের কাজ কিংবা দায়িত্ব নিখুঁতভাবে করুন যারা অপমান করার সুযোগ করছেন, তাঁদেরকে নিজের কোন দুর্বলতা বা ত্রুটির খোঁজ দেবেন না। নিজের কাজ ও দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করুন, তারা আপনার দোষ খুঁজে না পেলে অপমান করাটা একটু শক্তি হয়ে দাঁড়াবে।

সম্মিলিত ভাবে মোনাজাত করা কি জায়েজ…. আছে

নামাযের পরে জামাতবদ্ধ মুনাজাত গত কয়েকশত বৎসর যাবৎ চালু হয়েছে। তাতে কোনো প্রকারের ফযীলত আছে বলে আমি জানতে পারি নি। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবীগণের যুগে এইরূপ মুনাজাতের প্রচলন ছিল না বিধায় কোনো কোনো আলিম একে বিদ‘আত বলেছেন। আমরা জানি যে, নামাযের পরে মুনাজাত করা ও মুনাজাতে হাত উঠানোর ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। একাকী মুনাজাত করলে এই দুইটি ফযীলতই পলিত হয়। সমবেতভাবে মুনাজাত করার কোনো ফযীলত হাদীসে উল্লেখ করা হয় নি। এক্ষেত্রে আমাদের আশা হলো, একজন মুনাজাত করবেন এবং সমবেত সকলেই ‘আমিন’ বলবেন, এতে হয়ত আল্লাহ সকলের আবেদনে মুনাজাতটি কবুল করবেন। এ জন্য অবশ্যই ইমামকে জোরে জোরে সবাইকে শুনিয়ে মুনাজাত করতে হবে। এতে ‘মাসবূক’ মুসাল্লীদের নামায আদায় বিঘিœত হবে। আর ইমাম যদি মনে মনে মুনাজাত করেন তবে তো কিছুই হলো না। ইমাম একাকী মুনাজাত করলেন। মুক্তাদিগণ কিছুই না করে হাত তুললেন ও নামালেন। পক্ষান্তরে একাকী মুনাজাত করলে নিজের মনের আবেগ ও প্রয়োজন অনুসারে মুনাজাত করা যায়। এতে মুনাজাতের ফযীলত ও মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি সাধিত হয়, কিন্তু কারো নামাযের ক্ষতি হয় না। এভাবে আমরা বুঝতে পারছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতই উত্তম। কিন্তু আমরা বিষয়টিকে উল্টে ফেলেছি। তাছাড়া রাসূল সাঃ পরের যুগগুলিতেও সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের যুগেও কেউ কখনো ফরয নামাযের পরে সমবেতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করেননি। তাঁরা সুযোগ পেলে এই সময়ে ব্যক্তিগতভাবে যিক্র ও মুনাজাত করতেন।) হাদীস থেকে বুঝা যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)যিকর ও মুনাজাত একাকী পালন করতেন। জামাতে উপস্থিত সাহাবীগণের সাথে একত্রে তা আদায় করতেন না। কখনোই সাহাবীগণ নামাযের পরের মুনাজাতে তাঁর সাথে শরীক হয়েছেন বলে বর্ণিত হয় নি। প্রায় অর্ধ শত সাহাবী থেকে বর্ণিত ‘মুতাওয়াতির’ পর্যায়ের হাদীসগুলির একটি হাদীসেও বর্ণিত হয় নি যে, একদিন একটি বারও তিনি মুক্তাদিগণের সাথে একত্রে মুনাজাত করেছেন। পক্ষান্তরে সাধারণ ফযীলত জ্ঞাপক হাদীসের আলোকে অনেক আলিম একে সমর্থন করেছেন। তাঁরা এই “জামাতবদ্ধ মুনাজাত”-কে “মুস্তাহাব” বলেছেন। চার ইমাম ও পূর্ববর্তী সকল ফকীহ বলেছেন যে সালামের মাধ্যমে নামায শেষ হয়ে যায়। হাদীস শরীফেও বলা হয়েছে যে তাকবীর দিয়ে সালাত শুরু এবং সালামেই সালাত শেষ। এগুলির সাথে সঙ্গতি রক্ষার জন্য তাঁরা বলেছেন যে, এই মুনাজাত নামাযের কোনো অংশ নয়। নামাযের পরে অতিরিক্ত একটি মুস্তাহাব কাজ। নামায সালামের সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়, তবে কেউ যদি এর পরে অন্য কোনো মুস্তাহাব কাজ করে তাহলে দোষ নেই। এখানে মূল হলো মনের আবেগসহ মাসনূন মুনাজাতগুলি পালন করা। নামাযের পরে মুনাজাতের ক্ষেত্রে একাকী মুনাজাতই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রীতি। এছাড়া মনোযোগ আনয়ন ও মাসনূন বাক্য পালনের জন্যও একাকী মুনাজাত উত্তম। জামাতে ইমামের সাথেও মুনাজাত করা যেতে পারে। তবে সদাসর্বদা এইরূপ জামাতবদ্ধ মুনাজাত করা, একে জরুরী মনে করা বা তা পরিত্যাগকারীকে খারাপ মনে করা খুবই অন্যায়। আল্লাহ আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন । আমীন।