প্রিয় নবীজীর ভালোবাশায় সাহাবারা এমনই করতেন! আর আজ আমরা কি করি

প্রিয় নবীজীর ভালোবাশার একটি গল্প শুনুন। এক সাহাবা হযরত খায়ছামা রাঃ বিশেষ কোনো কারণে তিনি তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহন করতে পারেন নি। একদিন তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন প্রয় স্ত্রীগণ তাঁর পাশে এসে জড় হলেন। সেই সাথে একেক জন একেক রকমের খেদমতে লেগে গেলেন। কেউ পাখা করতে লাগলেন। কেউ ঠাণ্ডা পানি এগিয়ে দিলেন। কেউ স্বস্বাদু খাবার এনে হাজির করলেন। কেউ বা মাথায় হাত বুলিয়ে বিলি কাটতে লাগলেন।

হযরত খায়ছামা রাযিঃ যখন আরাম-আয়েশের এসব আসবাবপত্র ও সুন্দর ব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি কয়েকবার কসম করে বললেন—এটা কখনো সম্ভব নয় যে, আমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তপ্ত বালু হাওয়ায়, খোলা আকাশের নীচে প্রচণ্ড মরুতাপে দদ্ধ হবেন আর আমি বালাখানায় বসে বসে আরাম করবও? আমার প্রিয়নবী যুদ্ধের ময়দানে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর থাকবেন, আর আমি ঠাণ্ডা পানি পান করব, ভালো ভালো মুখরোচক খাবার খাবো? এ কখনো হতে পারে না। এই বলে সাথে সাথে তিনি তাবুকের পথে পয়া বাড়ালেন। চললেন জিহাদের ময়দানে—প্রিয় নবীজীর প্রিয় কাফেলার পদাংক অনুসরণে।

সত্যিই, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুঃখ যাতনা হযরত সাহাবায়ে কেরামের জন্যে ছিল অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক। তাঁদের হৃদয়ের পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিল প্রিয় নবীজির ভালোবাসা। হযরত খায়ছামা রাযিঃ-এর কথাগুলো এরই প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

তাই আসুন, আমরাও নবীজীকে ভালোবাসি। আর ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে ঐসব কাজ করি যেগুলো দ্বারা তিনি খুশী হবেন এবং ঐসব কাজ থেকে বিরত থাকি যেসব কাজের দরুণ তিনি কষ্ট পাবেন। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের তাওফীক দাও। তোমার প্রিয় হাবীবের প্রতিটি সুন্নতকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফীক দাও। সেই সাথে নবীজীর নূরাণী সুন্নতগুলো যেন গোটা পৃথিবীতে জিন্দা হয় সেজন্য নিজ নিজ সামর্থ অনুসারে চেষ্টা-ফিকির ও মেহনত চালিয়ে যাওয়ার তাওফীক নসীব করো। আমীন। [সহায়তায়ঃ ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ-মাওলানা যাইনুল আবেদীন]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *