নতুন বউ (গল্প)

আমি রান্না করছিলাম পিছন থেকে কাব্য এসে জড়িয়ে ধরলো। ঘুমের ওর চোখ লেগে আসছে তবুও দুষ্টামি করার প্রতি বিন্দুমাত্র অনিহা নেই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম
-কি মশাই, সকাল সকাল এতো রোমান্টিক? ব্যাপারখানা কি?
আমি কথা শেষ ও করতে পারলাম না। তার আগেই অভিমানের ডিব্বা হয়ে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো
-এখন দেখছি বৌ এর কাছেও রোমান্টিক হতে হলে দিন ঘন্টা পঞ্জিকা দেখে হতে হবে!
ওর অভিমানি চেহারা দেখে আমার হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া অবস্থা। আমি হাসতে হাসতে বললাম
-হ্যাঁ পঞ্জিকা দেখেই রোমান্টিক হতে হবে। এখন যাও ফ্রেশ হয়ে নাও। নয়তো অফিসের দেরি হয়ে যাবে।
কাব্য কিছু না বলে মুখ গোমড়া করে চলে গেলো। অন্যদিন আলিশা আমার ঘড়ি কই, আলিশা আমার টাই টা বেঁধে দাও, আলিশা এটা কই ওটা কই। বাড়ি একদম মাথায় তুলে রাখে। চোখের সামনে সব থাকতেও যখন আমাকে এগুলো দেওয়ার জন্য অযথা প্যারা দেয় তখন রাগ দেখিয়ে যখন জিজ্ঞাসা করি
-এই জিনিসগুলো ও নিজে খুঁজে নিতে পারো না? সব তো চোখের সামনেই থাকে।
তখন বাদর টা সেই ভুবন ভুলানো হাসি ঠোঁটে এনে বলবে
-পারি কিন্তু তুমি গুছিয়ে দিলে জিনিসগুলো থেকে তোমার স্মেল আসে।
আর এরকম কথা শোনার পর যেকোনো মেয়েই গলে মোম হয়ে যাবে আর সে যদি হয় স্বামী পাগল তাহলে তো আরো!
যাই হোক যা বলছিলাম, আমি নাস্তা বানিয়ে টেবিলে সাজাচ্ছিলাম দেখি কাব্য রেডি হয়ে হনহন করে চলে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম
-কি আজব। যাচ্ছো কোথায়? খাবে না?
আমার কথার কোনো জবাব না দিয়ে ড্রয়িং রুমে সোফায় বসে মোজা পড়তে লাগলো। আমি গিয়ে খাওয়ার কথা বললে রাগ নিয়ে বললো খাবে না। আমিও এতো সহজে ছাড়ার পাত্রী নই। টেনে এনে টেবিলে বসালাম। তারপর মুখের সামনে খাবার ধরে বললাম
-হা করো! খাইয়ে দিচ্ছি। নো তিড়িং বিড়িং। চুপচাপ লক্ষ্মী ছেলের মতো খেয়ে উঠো।
কোনো কথার জবাব দিচ্ছিলো না অথচ মিনমিন করে বললো
-লক্ষ্মী শব্দ টা ছেলেদের সাথে যায় না। এটা মেয়েদের গুণ ই বুঝায়
কিছুক্ষণ পরে কথাটা বুঝেছিলাম। মস্তিষ্ক মাঝে মাঝে অলসতা করে পুরো কথা বুঝার সিগন্যাল একসাথে পাঠায় না। তৎক্ষণাৎ বুঝতে না পারায় জিজ্ঞাসা করেছিলাম কি বললে
-কিছু না।
তারপর খাবার টেবিল থেকে উঠে চলে গেলো। আর কিছু না বলেই সোজা দরজার বাইরে গিয়ে গাড়ি ও স্টার্ট দিয়ে দিলো। এমন কখনো হয় নি কাব্য বাসা থেকে বের হওয়ার আগে আমার কপালে চুমু এঁকে টেক কেয়ার বলে নি। কিন্তু আজ! সকালের কাজ টা কি ঠিক হয়েছিলো? হয়তো ও সত্যিই রোমান্টিক মুডে ছিলো। আর অভিমান টা কষ্ট পাওয়া থেকে। আর আমি কি না হেসেছিলাম!
নিজের কাছে নিজেকে খুব অপরাধী লাগছিলো। দরজা টা লাগাতে যাবো এমন সময় হুট করে কাব্য ঢুকে কপালে চুমু দিয়ে টেক কেয়ার বলে মুহূর্তের মধ্যে ভ্যানিশ। আমার সাথে কি ঘটেছিলো তা বুঝতে আমার খানিকটা সময় লাগলো। কাব্য ঝড়ের গতিতে এসে ঝড়ের গতিতে চলে গেলো কি না! কিন্তু ঠিকই আমার ভিতর সব লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। এতোটাই চমকে ছিলাম যে এখন ও বুক ধুকপুক করছে। অথচ কাব্য চলে গেছে মিনিট দশেক তো হবেই। একটা ব্যাপার অদ্ভুত! কাব্যের সাথে বিয়ের দুটো বছর পেরিয়ে গেলেও ওর ঠোঁটের স্পর্শ এমনভাবে শিহরিত করে যেন আমি সদ্য ষোড়শী প্রথমবার প্রেমিকের ঠোঁটের উষ্ণ ছোঁয়া পেলাম।

কাব্যের কথা ভাবতে ভাবতে আনমনে হয়ে সামনে এগুচ্ছিলাম। আরেকটু হলেই লাভ বার্ড এর সিরামিক শো-পিস টা হয় আমার পাড়া খেয়ে ভাঙতো নয়তো আমি উস্টা খেয়ে পড়তাম। কিন্তু কোনোটাই হলো না ফোন টা বেজে উঠার কারণে। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি কাব্যের কল। মাত্রই তো গেলো। এখন আবার কল? নিশ্চয়ই কিছু ফেলে গেছে। খুব না? একা একা সব করেছে। এখন ভালো হয়েছে না কিছু নিতে ভুলে গিয়েছে। এইসব ভাবতে ভাবতে ফোন টা কেটে গেলো। দ্বিতীয়বার রিং হওয়ার পর তো আমার বুক আবার ধুকপুক শুরু করলো। এমনিতেই সকালে কাব্যের মন খারাপ করে দিছি। তার উপর এখন ফোন টা ও রিসিভ করতে পারি নি। তাই এটা তাড়াতাড়ি রিসিভ করে। তাড়াতাড়ি কথা বলতে গিয়ে তোতলিয়ে গেলাম
-হ্যা…হ্যালোওওও
কাব্য ছোট একটা ধমক দিয়ে বললো
-তোতলামি শুরু করছো কেন?
-না…না মানে…মানে
-কি না মানে? হইছে কি তোমার?
আমি কিছু বলতে যাবো কাব্য ফোনের ঐ পাশ থেকে বলে উঠলো
-আচ্ছা যা বলি শোনো, গেইটের সামনে গিয়ে দেখো তো আমি ওয়ালেট টা ফেলে এসেছি কি না! মেইন গেইটে যেতে হবে না। ঐখানে ফেললে দারোয়ান ফোন দিতো। তুমি একটু সদর দরজা আর তার আশপাশ টা দেখো।
-আচ্ছা
-ওকে বাই।

টুট…ফোন টা কেটে গেলো। কাব্যের এখনো মন খারাপ? আমি যে মাঝেমধ্যে কি করি না!
সদর দরজা খুলে সোজাসুজি শেষ অবধি তাকালাম। কই ওয়ালেট তো দেখছি না। তারপর ডানে তাকাতেই দেখি বিশাল একটা টেডি বিয়ার সাথে একটা ফুলের তোড়া। কিন্তু তোড়া টা একদম ব্যতিক্রম। লিলি, কাঠগোলাপ, কৃষ্ণচূড়া আর কদম দিয়ে। এগুলো সব আমার পছন্দের ফুল। কিন্তু সবগুলো একসাথে যে এতোটা সুন্দর লাগতে পারে তা আমার জানা ছিলো না! ফুল আর টেডি বিয়ার ঘরে নিবো কি আমি তো দরজার সামনে দাঁড়িয়েই হা হয়ে ছিলাম কতক্ষণ সেই খেয়াল ই নেই। টেডির হাতে তোড়াটা এমনভাবে আছে যেনো টেডি না একজন মানুষ ফুলের তোড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ওগুলো ঘরে আনার জন্য কাছে যেতেই দেখি ফুলের তোড়াতে একটা চিরকুট। বিস্ময় নিয়ে চিরকুট টা খুললাম
“সকালবেলা যা করলা তার শাস্তি রাতে পাবা। সব সুদে আসলে শোধ তুলবো। তখন দেখবো নে কোথায় থাকে তোমার রোমান্টিক হওয়ার পঞ্জিকা”
আমি আনমনে বলে উঠলাম পাগল একটা!
তারপর ফুলের তোড়াটা হাতে তুলতেই নিচে দেখি আরেকটি চিরকুট তাতে বেশি কিছু না শুধু একটাই শব্দ লিখা। দুনিয়ার সবচেয়ে দামি শব্দটা “ভালোবাসি”
আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়ে বললাম “How lucky I am!”
টেডি আর ফুলগুলি রুমে রাখতেই একটা অফিসিয়াল নাম্বার থেকে কল আসলো। রিসিভ করতেই একজন গম্ভীর কন্ঠের লোক বলে উঠলো
-আপনি কি আলিশা মাহমুদ?
-জ্বী। কিন্তু আপনি?
-কাব্য স্যার বলছে স্যারের হোয়াটস এপে আপনার ইনস্ট্যান্ট ছবি তুলে পাঠাতে।
সাথে সাথে লোকটা ফোন কেটে দিলো। আজব তো! কাব্য কি লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছে? বাইরের মানুষকে দিয়ে….কিন্তু সকাল থেকে যা যা করলো তাতে তো বুঝাই যাচ্ছে ও রেগে নেই। তাহলে এখন নিজে না বলে যে…..


কাব্যের এরকম বোকামি কাজের কোনো হেতু আমি খুঁজে পাচ্ছি। ঘরের বৌ এর ছবি কি না বাইরের মানুষকে দিয়ে…
কাব্য কে ফোন দিলাম। রিসিভ করলো না। কেটে দিয়ে মেসেজ দিলো “Open your phone camera, take selfie then send me quickly”
মানে কি? কাব্যের সমস্যা টা কোথায় তাই তো বুঝে উঠতে পারছি না। ছবি তুলে পাঠিয়ে দিলাম। সাথে সাথে সিন অথচ নো রিপ্লাই। মন চাচ্ছে কাব্যরে মাথায় তুলে আছাড় মারতে। কিন্তু আফসোস মাথায় ও তুলতে পারবো না আর আছাড় ও দিতে পারবো না।
সারাদিন বাসায় একা বসে বোর হওয়া ছাড়া আমার কোনো কাজ থাকে না। কাব্য মশাই আমাকে আবার কোনো জব ও করতে দিবে না। ছেলেটার মাথায় কিঞ্চিত সমস্যা তো আছেই। বড্ড জেদি। বাবা কি কখনো আর ওর কাছে এসে বাড়ি ফিরে যেতে বলবে? নিজের ছেলেকেই যেখানে অনেকে নিতে আসে না আর সেখানে তো কাব্য….
শ্বশুর বাড়ির কথা মনে পড়তেই ভাবী মা রিসাত আর অণুর কথা মনে পড়ে গেলো। একবার ঘুরে আসা দরকার। অণুর মুখে ছোটমা আর ভাবীর মুখে বনু রিসাতের আপুটি আর মায়ের মিষ্টি মেয়ে এতোগুলো ভালোবাসা ছেড়ে দূরে থাকার যন্ত্রণা কত টা তা বলে বুঝানো সম্ভব না। বাসার টুকটাক কাজগুলো শেষ করে রাখলাম। কাব্য কাজের লোক রাখতে চেয়েছিলো কিন্তু আমার জোরাজুরিতে হার মানতে হয়েছে। দুইজন এর সংসারের কাজ ও যদি কাজের লোক এসে করে দিয়ে যায় তাহলে সারাদিন আমি করবো টা কি!
ফুলের তোড়া থেকে ফুলগুলি আলাদা করে বেড সাইডের ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখলাম। তারপর রান্না শেষ করে। ড্রয়িং রুম বেড রুম সব গুছিয়ে গোসল করে রেডি হয়ে বের হওয়ার আগে সবকিছু ফ্রিজে রেখে দিলাম। কাব্য আসার কিছুক্ষণ আগে বাসায় ফিরবো। তারপর ও আসলে সব গরম করে দিবো। পরিকল্পনা টা ঠিক এমন ই ছিলো!

ঐ বাসায় গিয়ে দেখলাম মা আর ভাবী রান্নাঘরে। রিসাত কোচিং এ আর অণু স্কুলে। ভাইয়া অফিসে আর বাবা নাকি কোন বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে গেছে। হাজার মন খারাপ থাকলেও এই বাড়িতে আসলে বুঝি মন ভালো হয়ে যায়। গেইট দিয়ে ঢুকা থেকে যে কারোর রুমে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সবাই এতো স্নেহ ভালোবাসা দেখায় যে নিজেকে মহাভাগ্যবতী বললেও বোধহয় কম হবে। আমিও রান্নায় সাহায্য করতে চাইলে ভাবী মাথায় একটা টুকা দিয়ে বলে
-এতো কাজ করার শখ কেন? যা ঐখানে চুপ করে বস গিয়ে।
আমি অভিমান করে দাঁড়িয়ে থাকলাম। মা শুনিয়ে শুনিয়ে বললো
-কেউ অভিমান করলে কিন্তু পায়েস পাবে না?
আমার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো। আমি খুশিতে খানিকটা চিৎকার দিয়ে বললাম “পায়েস!”
ভাবী আবার চোখ রাঙিয়ে বললো
-তোরে না সোফায় গিয়ে বসতে বললাম
আমি চুপচাপ সোফায় গিয়ে বসলাম। অণুর স্কুল ছুটি হয়েছে। বাসায় ঢুকেই আমাকে দেখে এক দৌড়ে এসে আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। আমি কপালে চুমু দিয়ে বললাম যাও ফ্রেশ হয়ে আসো। অণু কোনো কথা না বলে বা গাল আমার দিকে এগিয়ে দিলো। বা গালে চুমু দেওয়ার পর ডান গাল। ডানে গালে চুমু দিয়ে নাটকটা টেনে দিয়ে বললাম পাগলী একটা। অণু আমার বা গালে চুমু দিয়ে বললো তুমিও। তারপর এক দৌড়ে উপরে চলে গেলো।
ভাবী সামনে পায়েস এর বাটি নিয়ে বসেছে। চামচ তুলে মুখের সামনে এনে যেই মাত্র বলেছে নে হা কর। তখনি আমার ফোনটা বেজে উঠেছে। দেখি কাব্যের কল। রিসিভ করতেই
-রেডি হয়ে থাকো। আমরা বেরবো। আমি আসছি
-হ্যা…হ্যালো…
ফোনটা কেটে দিয়েছে। কাব্য এমন কেন করছে? আমাকে চিন্তাগ্রস্থ দেখে ভাবী জিজ্ঞাসা করলো
-কিরে কি হইছে?
-না কিছু না! আমি আসি গো
-সে কি! পায়েস টা তো মুখেও তুললি না।
এক চামচ পায়েস মুখে দিয়ে বললাম
-অন্যদিন এসে বেশি করে খাবো। পায়েস টা ভালো হইছে। কিন্তু তোমার দেবর অপেক্ষা করছে। আসি আমি। আল্লাহ্ হাফেজ।

বের হওয়ার সময় শফিক ভাই ঘুমাচ্ছিলো বলে উনাকে ডিস্টার্ব না করে সিএনজি দিয়ে চলে এসেছিলাম। এখন তো একটাও সিএনজি খালি পাচ্ছি না। বাসায় কি করে যাবো! কাব্য যদি আগে বাসায় চলে আসে? ও তো আবার ও রেগে যাবে। যদিও ওর রাগ ভাঙানো আমার জন্য কোনো ব্যাপার ই না তবুও কষ্ট যে পাবে!
হুট করে একটা বাইক আমার সামনে থামলো। বছর কুড়ি হবে ছেলেটার। স্বাস্থ্যবান সাথে মানানসই উচ্চতা আর সৌন্দর্য ও মাশাআল্লাহ! আমার দিকে একবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত তাকিয়ে
-Hey Young lady. লিফট লাগবে নাকি?
-জ্বী না। ধন্যবাদ
-ওকে। সেধে সেধে কিছু দিতে চাইলে মানুষ তা নেয় না।
তারপর আমার দিকে তাকিয়ে মাথার পিছনে এক হাত রেখে বললো
-আপনি কিন্তু দেখতে মাইরি হেব্বি।
-দেখুন যেখানে যাচ্ছিলেন। সেখানে যান। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইভটিজিং করছেন। দেখে তো ভদ্র ঘরের ছেলে বলেই মনে হচ্ছে। লজ্জা বলতে কি কিছু নেই?
-লজ্জা ঘৃণা ভয় সামনে সুন্দরী থাকতে নয়।
এইবার আমার মাথা গরম হয়ে গেলো। এমনিতেই টেনশনে আছি তার উপর এই বেয়াদব ছেলে। বয়সেও জুনিয়র। কখন থেকে টিজ করে যাচ্ছে। রাগ সামলাতে না পেরে বললাম
-বেয়াদব ছেলে। একটা থাপ্পড় মেরে সব দাঁত ফেলে দিবো। পরিবার কোনো শিক্ষা দেয় নি? মেয়েদের কি করে সম্মান দিতে হয়? তো…
কেউ পিছন থেকে মুখটা চেপে ধরলো! তারপর আর মনে নেই।
চোখটা খুলে সাথে সাথে বন্ধ করে নিলাম। চোখে হঠাত্ আলো লাগায় চোখ খুলে রাখা সম্ভব হয় নি। ধীরে ধীরে চোখ খুললাম। চারপাশ টা একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম। একটা ভাঙা টেবিল দুটো হাতল বিহীন চেয়ার। বদ্ধ জানালা, ভারী পর্দা আর একটা জীব মানে আমি ছাড়া রুমটায় আর কিছু নেই। হাত পা সব বেঁধে রেখেছে। শক্ত করে বাঁধে নি যদিও কিন্তু তবুও খোলা সম্ভব না। বড্ড পানি পিপাসা লেগেছে। ভাগ্যিস মুখটা বাঁধে নি। আমি ডাকলাম
-কেউ আছেন?…শুনছেন? একটু পানি…
কেউ সারা দেয় নি। উল্টো বদ্ধ ঘরে আমার কথাগুলোর ই বারবার প্রতিধ্বনি হচ্ছিলো।
কিছুক্ষণ পর পা এর আওয়াজ পেলাম। কেউ একজন আমার দিকে এগিয়ে আসছে। ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম ঐ ছেলেটা। ছেলেটা এসে হাত খুলে দিয়ে পানি দিলো। এতো তৃষ্ণা পেয়েছিলো আমি পানি পেয়ে সব ভুলেই গিয়েছিলাম। এক নিঃশ্বাসে পানির গ্লাস শেষ করে ছেলেটা ধন্য…
আরে এই ছেলে কি আমাকে কিডন্যাপ করেছে? রেগে জিজ্ঞাসা করতে নিলাম
-তুমি আ…
ছেলেটা ঠোঁটে আঙুল রেখে শাপের মতো হিসসসস শব্দ করে আমাকে চুপ থাকতে বললো। কালো পোশাক পড়া কিছু মানুষ আমার দিকে এগিয়ে আসলো। চোখ ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না। পুরুষ কি মহিলা তা ও বুঝা যাচ্ছে না। অবশ্য মহিলারা তো কিডন্যাপ করে না সাধারণত। ওরা আমাকে একটা অন্ধকার রুমে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিলো। ছোট থেকেই আমি অন্ধকার খুব ভয় পাই। এই মুহূর্তে নিজেকে সবচেয়ে অসহায় লাগছে। কাব্য কোথায়? আমি ওর কাছে যাবো। যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম ঐখানেই বসে পড়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলাম

মীর হৃদয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *