দেখুন আজকের বৃষ্টিতে ঢাকার রাস্তা তলিয়ে কি হাল (ভিডিও)

ভিডিও টি একদম নিচে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাই নাজুক। এ জন্য অল্প বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় বন্দি হয় নগরবাসী। ছবি : মীর ফরিদ মৌচাকের যাত্রী ছাউনিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইমরান হোসেন। সামান্য বৃষ্টিতেই ফুটপাত তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রী ছাউনির বেঞ্চে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। বিরক্তিভরে জানালেন, ‘অফিস বারিধারায়, এ রাস্তা দিয়েই নিয়মিত চলাচল করি। প্যান্ট-শার্ট সব প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। একটু যে দাঁড়াব, সে জায়গায়ও খুঁজে পাচ্ছি না। সব বাস এদিক দিয়ে গেলেও এত পানির জন্য কোনোটাই দাঁড়াচ্ছে না এ স্ট্যান্ডে। এখন কিভাবে অফিসে যাব তাই ভাবছি। পুরো বর্ষা মৌসুমে যে কিভাবে অফিস করব তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি। গত বছরও এ জায়গার পরিস্থিতি একই রকম ছিল। তাহলে কি এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো পরিকল্পনাই নেই?’ বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার এ চিত্র শুধু মৌচাক নয়, পুরো রাজধানীতে। মিরপুরের আহম্মদনগর, পাইকপাড়া, কাজীপাড়া ও মণিপুরীপাড়ার বাসিন্দাদের যত ভয়, এর সবই বৃষ্টি হলে। কারণ তখন ঘর থেকে বের হওয়া এবং ঢোকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে যাচ্ছে পানি। নাগরিক জীবন হয়ে পড়ছে বিপর্যস্ত।

সড়কগুলো যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পর নগরীর বিভিন্ন স্থান ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। রাজধানীর নিম্নাঞ্চল তো প্রায় ডুবেই যায়। বস্তি এবং নিম্ন আয়ের লোকজনকে রাজধানীতে থেকেও বসবাস করতে হয় পানির ভেতর। এ ছাড়া রামপুরা, মালিবাগ, মৌচাক, গোড়ান, বাসাবো, আরামবাগ, মতিঝিল, গোপীবাগ, নয়াপল্টন, পুরানা পল্টন, মহাখালী, কাকরাইল, ফকিরাপুল, মৎস্য ভবন, শেরে বাংলানগর, শুক্রাবাদ, শান্তিনগর, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পাইকপাড়াসহ প্রায় সব অঞ্চলই কম-বেশি জলাবদ্ধতার শিকার। এসব এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই সরু, যা দিয়ে একটু বেশি বৃষ্টিপাত হলে কোনোমতেই পানি নিষ্কাশন সম্ভব নয়। পুরান ঢাকার লালবাগের রাস্তায় অনেক সময় নৌকাও চলাচল করে। এ ছাড়া বকশিবাজার, নাজিমউদ্দিন রোড, কাশ্মীরিটোলা লেন, ঢাকেশ্বরী রোড, পলাশীর একাংশসহ বিভিন্ন স্থানও প্লাবিত হয়। অনেক ভবনেরই নিচতলা, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে যায়। পানির সঙ্গে ড্রেন ও স্যুয়ারেজের পানি মিলে এক ভয়াবহ পরিবেশের সৃষ্টি করে। অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় এ জলাবদ্ধতা থেকে। রাজধানীর কর্মব্যস্ত মানুষেরা সকালে অফিসে যাওয়ার সময় পড়েন বিপাকে। কোনো যানবাহনই পাওয়া যায় না। রিকশাওয়ালা দ্বিগুণ ভাড়া দিলেও যেতে চায় না। পানির ভেতর দিয়ে পুরুষরা কোনোমতে পার হয়ে গেলেও মহিলারা পড়েন মহাবিপদে। স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীদের অনেক সময়ই জামা-কাপড় ভিজিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার শিকার শান্তিনগরের বাসিন্দাদের কার্যত আটকেই থাকতে হয়। প্রাইভেট কারগুলোও রাস্তার মাঝখানে আটকে থাকতে দেখা যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেই মূলত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে নগরবাসী। রাস্তায় পানি জমে থাকায় বৃষ্টি শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই রাজধানীর সর্বত্রই ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞরা ঢাকার জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে ড্রেনেজ-স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, ঝিল ভরাট করে বঙ্ কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণ, দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ না করা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছেন। প্রাকৃতিক মাটি খুব সহজেই পানি শোষণ করতে পারলেও ঢাকা শহরে তা পারে না। জানা যায়, রাজধানীতে প্রতিবছর ৫৬ কোটি ঘনলিটার পানি নিষ্কাশিত হয়, যার ২৩ কোটি ঘনলিটারই বৃষ্টির পানি। ওয়াসার ২৭৫ কিলোমিটার ড্রেনেজ লাইন রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তবে ড্রেনের নির্মাণ এবং তদারকিতেও রয়েছে বিভক্তি। ওয়াসার দায়িত্বে মূলত মাটির নিচের ড্রেনগুলো আর মাটির ওপর অর্থাৎ সারফেস ড্রেনের দায়িত্ব ঢাকা সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ময়লা জমে অনেক ড্রেন দিয়েই পানি নিষ্কাশন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং তলানি জমেও এর আয়তন অনেক ছোট হয়ে এসেছে। পূর্ব জুরাইনের বড় ধরনের একটি ড্রেনই এ এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন এ ড্রেন পরিষ্কার না করায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি রাস্তার ওপর চলে আসে এবং নিচু বাড়িঘরগুলো প্লাবিত হয়। এ অবস্থা দেখা যায় শনির আখড়ার জিয়া সরণির বড় ড্রেনটিতেও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যদি নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা না হয় তাহলে এর প্রয়োজনীয়তা কী? বর্ষাকালে ঢাকায় অবিরাম বৃষ্টি হলে গড়ে ২৭০ মিলিমিটার পানি জমে; কিন্তু ওয়াসার প্রতিদিন পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা অনেক কম। গত বছরের একটানা ২৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে জনজীবন হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত। এ বছরও যদি এমন বৃষ্টিপাত হয় তাহলে একই অবস্থার সৃষ্টি হবে। কারণ গত এক বছরে কিছু পাইপলাইন চওড়া করা ছাড়া তেমন কিছুই করা হয়নি। এ ছাড়া ঢাকাকে বন্যামুক্ত রাখার জন্য শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলেও বাইরে পানি বের করার তেমন কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। তাই অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পানি অপসারণ কষ্টকর হয়ে পড়ে। ওয়াসার দাবি, সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে থাকা সারফেস ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় তারা পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। ফলে অধিক বৃষ্টিপাত হলে ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন কষ্টকর হয়ে পড়ে। ১৯৯৭ সালের রাজউকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ জায়গা পানি অপসারণ ব্যবস্থার জন্য রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না অধিকাংশ বাড়ির মালিক। অনেকেই আবার পলিথিনসহ আবর্জনা ফেলছে ড্রেনে। তাই জলাবদ্ধতার জন্য ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নগরবাসীর অসচেতনতাও দায়ী বলে মনে করেন অনেকেই। এ বছরে পানি নিষ্কাশনে ওয়াসার পরিকল্পনার বিষয়ে ড্রেনেজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা বর্তমানে ঢাকা মহানগর জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প, ফেস-২-এর আওতায় পাইপলাইন বসানো, বঙ্ কালভার্ট নির্মাণসহ নানা কাজ করছি। এখন নগরীতে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি পানি আটকে থাকে না। শুধু কাজীপাড়া, শেরাটনের মোড়, মৌচাকসহ বেশ কিছু জায়গায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয় না।’ ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *