জানেন রমজান বাদে কোন মাসে সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন বিশ্বনবী?

গোনাহমুক্ত নিষ্পাপ জীবনের অধিকারী প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়বন্ধু। তারপরও প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার ইসতেগফার পড়তেন। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী মাস শাবানে বিশেষ আমল করতেন। শাবান মাসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইবাদত বন্দেগি দেখে তাঁর স্ত্রীগণ বিস্ময়ে বিমুগ্ধ হয়ে যেতেন। রমজান ছাড়া প্রিয়নবি শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন,

শাবান মাসের গুরুত্ব, ফজিলত ও বরকত ঘোষণা করেছেন। শাবান মাসে প্রিয়নবির বিশেষ আমলগুলোর বর্ণনা তুলে ধরা হলো- >> হজরত উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘একদিন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ (শাবান) মাসে বেশি বেশি রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলাম। তিনি উত্তরে বললেন, ‘লোকেরা রজব ও রমজান এ দুই মাসের গুরুত্ব বেশি দেয় এবং রোজাও রাখে। কিন্তু মধ্যবর্তী এ মাসটিকে উপেক্ষা করে চলে। অথচ এ মাসেই বান্দার আমলসমূহ আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হয়। আমার কামনা হলো- আমার আমলসমূহ আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করার সময় আমি রোজা অবস্থায় থাকি। এ কারণেই আমি শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখি। (মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ, আবু দাউদ) >> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন

-‘রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস আর রমজান আমার উম্মতের মাস। – শাবান মাস (মানুষকে) অন্যায়-অপরাধ থেকে রক্ষা করে। আর – রমজান মাস মানুষকে পূত-পবিত্র করে। যেহেতু এ (শাবান) মাসে প্রচুর কল্যাণ ও নেকি রয়েছে; সেহেতু এর নামকরণ করা হয়েছে শাবান।’ >> হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘আমি রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কখনো রমজান ছাড়া পুরো মাস রোজা রাখতে দেখিনি; আর শাবান মাসের মতো অন্য কোনো মাসে অধিক রোজা রাখতেও দেখিনি।’ (বুখারি ও মুসলিম) >> হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করা হলো- কোন রোজা রাখা উত্তম? উত্তরে প্রিয়নবি বললেন, ‘শাবান মাসের রোজা। কারণ এ রোজা রমজানের রোজার সম্মানের জন্য রাখা হয়।’ (তিরমিজি) >> হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় সাহাবারা শাবান মাসের চাঁদ দেখে- – পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করতেন। – মুসলমানরা তাদের সম্পদের জাকাত বের করে দিতেন, যেন গরিব-মিসকিনরা স্বাচ্ছন্দ্যে রমজানের রোজা রাখতে পারে। – বিচারকরা জেলখানার কয়েদিদের হাজির করে আপরাধী ব্যতিত বাকি লোকদের মুক্তি দিয়ে দিতেন। – ব্যবসায়ীরা এ মাসে তাদের ঋণ পরিশোধ করে দিতেন এবং অন্যদের কাছে যা পাওনা তা আদায় করে নিতেন। – রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে মানুষ গোসল করে ই’তেকাফে বসে যেতেন।

সর্বোপরি শাবান মাসে অধিক রোজা রাখা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ আমল হিসেবে প্রমাণিত। এছাড়া এ মাসে প্রিয়নবি বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, দান-সাদকা করতেন। সাহাবায়ে কেরামও প্রিয়নবির এ আমলগুলোর অনুসরণ ও অনুকরণ করতেন। পরিশেষে… শাবান মাসের বিশেষ আমল ও করণীয় কাজগুলো বাস্তবায়নে হজরত আবু ওমামা বাহেলি বর্ণনা করেছেন, ‘যখন শাবান মাস উপস্থিত হতো, তখন প্রিয়নবি বলতেন, এ মাসে তোমরা তোমাদের অন্তরকে পাক-পবিত্র করে নাও এবং নিয়তকে সঠিক করে নাও।’ (মুসলিম) আর এ মাসেই আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি অশেষ রহমত ও বরকত নাজিল করেন। বান্দাও অনেক অনুগ্রহ ও অনুকম্পা লাভ করেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শাবান মাসের বিশেষ আমল ও করণীয়গুলো যথাযথ আদায় করে রহমত, বরকত লাভ করা তাওফিক দান করুন। মাসব্যাপী রমজানের রোজা পালন ও ইতিকাফে অবস্থানের তাওফিক দান করুন। গোনাহমুক্ত জীবন গঠন ও পরকালের সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *