ইসলামিক গল্প, বুদ্ধিমান রাজা

অনেক বছর আগে এমন একটা দেশ ছিল যে দেশের জনগণ প্রত্যেক বছরের জন্যে তাদের একজন রাজা নির্বাচন করে নিত। যে ব্যাক্তিটিই রাজা হবে তাকে তার রাজত্বকালের এক বছর পরই একটা দ্বীপে চলে যাওয়ার চুক্তিতে সম্মত হতে হয়।একজন রাজার যখনই রাজত্বকাল শেষ হয় তখনই তার দ্বীপে যাওয়ার ও সেখানে বাস করার সময় এসে যায়। জনগণ তাদের বিদায়ী রাজাকে মূল্যবান সাজে সজ্জিত করে হাতির পিঠে চড়িয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য তৈরী করে।এটি প্রত্যেক বিদায়ী রাজার জন্যেই বেদনাজনক মুহূর্ত। উৎসব শেষে জনগণ রাজাকে নৌকায় করে দ্বীপে নিয়ে যায় এবং সেখানে রেখে চলে আসে। এমনিভাবে একদিন জনগণ ফিরে আসার সময় দেখল দূরের ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি জাহাজ থেকে এক যুবক কাঠের টুকরাতে ভেসে আসছে।তারা যুবককে নৌকায় তুলে দেশে নিয়ে গেল। যেহেতু নতুন রাজা দরকার তারা এক বছরের জন্য যুবকটিকে রাজা হওয়ার আবেদন করলে যুবকটি প্রথমে প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু পরে তাতে সম্মত হয়।জনগন তাকে দেশের নিয়মকানুন বুঝিয়ে বলে এমনকি এক বছরের জন্য রাজা নির্বাচন ও দ্বীপে নির্বাসনের কথাও। রাজা হওয়ার তিনদিন পরেই যুবকটি পূর্ববর্তী রাজাদের যে দ্বীপে নির্বাসন দেয়া হয়েছিল, তা পরিদর্শনে যান। দ্বীপটি জঙ্গলে ভরপুর ছিল এবং নানা রকমের জন্তু জানোয়ারদের ডাক শোনা যাচ্ছিল। রাজা যাচাই করার জন্যে ভেতরে গেলে অতীত রাজাদের মৃতদেহ দেখতে পেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, খুব দ্রূতই তাকে এখানে আসতে হবে ও অনুরূপ পরিণতি বরণ করতে হবে। রাজা তার রাজ্যে ফিরে আসার পর একদল শক্ত সামর্থ্য ব্যাক্তিকে বাছাই করে ঐ দ্বীপে পাঠিয়ে দিলেন। রাজা তাদেরকে ঐ স্বীপের জঙ্গল পরিস্কার,মারাত্মক ও বিপদজনক জন্তুগূলোকে তাড়ানো এবং অতিরিক্ত গাছগুলো কেটে ফেলার জন্যে বললেন।রাজা প্রত্যেক মাসেই কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে দ্বীপে যেতেন।দুই মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ দ্বীপটিকে পরিস্কার করে ফেলা হয় এবং বিপদজনক প্রানীগুলোকে তাড়িয়ে হয়।তারপর রাজার নির্দেশে দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে বাগান করা হয় এবন দ্বীপে নানা উপকারী প্রাণী যেমন মোরগ, হাস, গরু,ছাগল প্রভৃতি নিয়ে যাওয়া হয় |তৃতীয় মাসে রাজা শ্রমিকদের আদেশ করলেন দ্বীপে একটি বড় প্রাসাদ ও জাহাজের জন্যে বন্দর নির্মাণ করার জন্যে।মাস শেষে দ্বীপটি একটি সুন্দর জায়গায় পরিণত হল।যুবক রাজা একজন রাজা হিসেবে খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন ও সাধারণ জামাকাপড় পরিধান করতেন। তিনি তার আয়ের প্রায় সবটুকুই দ্বীপে জমা করতে লাগলেন। নয় মাস অতিক্রান্ত হলে রাজা তার মন্ত্রীদের ডেকে বললেন যে, ‘আমি জানি এক বছর অতিক্রান্ত হলে আমাকে দ্বীপে পাঠিয়ে দেয়া হবে, কিন্তু আমি এখনই সেখানে যেতে চাই।

’ মন্ত্রীগণ তার কথায় সমর্থন দিল না এবং বলল তাকে অবশ্যই বাকি তিন মাস সময় কাটিয়ে এক বছর পূর্ণ করতে হবে। বছর পূর্ণ হলে জনগণ রাজাকে মূল্যবান জামা কাপড় পরিধান করাল এবং হাতির পিঠে উঠিয়ে বিদায় দেয়ার জন্যে প্রস্তুত করল।রাজা এসময় বেশ হাসিখুশি ছিলেন। জনগণ প্রশ্ন করল, সকল রাজাই এ বিদায়ের সময় কান্না করেছে, কিন্তু আপনি হাসছেন কেন? বিদায়ী যুবক রাজা বললেন, তোমারা কি জাননা জ্ঞানী লোকেরা কি বলে? তারা বলে যে, “যখন তুমি এসেছিলে ভবে কেঁদেছিলে তুমি হেসেছে সবে এমন জীবন তুমি করিবে যাপন মরিলে হাসিবে তুমি ” কাঁদিবে ভুবন’। আমি তেমনিভাবে জীবন যাপন করেছি।যেখানে আগের সব রাজার রাজ্য নিয়ে মশগুল ছিল,আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেছি এবং তার জন্যে পরিকল্পনা তৈরী করেছি।আমি বিপদসংকুল দ্বীপকে একটি সুন্দর জায়গায় রূপান্তর করেছি যাতে আমি সেখানে আরাম আয়েশে বসবাস করতে পারি। আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে পরিচালনা করা দরকার তা এখান থেকেই শিক্ষা নিতে পারি।
আল্লাহ সুবহানাওয়াতা’লা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামী কালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা’আলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন। (সূরা হাশরঃ১৮)
তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *