আপনার সন্তান আপনার কাছে প্রিয়,তাই সন্তানের যে কোনো বিপদ থেকে রক্ষা করতে এই দোআটি পড়ুন

সবার কাছেই সব থেকে প্রিয় হচ্ছে তার সন্তান। সন্তান যেন ভালো থাকেন সেই জন্য মা-বাবা কত কিছুই না করে থাকেন। মা-বাবার যদি সাধ্য থাকতো তাহলে তারা নিজের সন্তানকে আকাশ থেকে চাঁদটাও এনে দিতেন। সন্তান যখন ছোট থাকে তখন মা-বাবার চিন্তাও বেশি থাকে। এই বুঝি সন্তানের কিছু হয়ে গেল। মা-বাবাকে এই চিন্তা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমাদের নবী (সা.) অনেক আগেই পথ দেখিয়ে গেছেন। বিভিন্ন হাদিসে তিনি বলেছেন কীভাবে একজন সন্তান সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে পারবে।

১. সুরক্ষার জন্য দোয়া : এই দোয়াটি আমাদে নবী (সা.) হাসান ও হোসেন (রা.) জন্য পড়তেন। তারা যেন সকল প্রকার খারাপ থেকে বেঁচে থাকতে পারেন। উচ্চারণ: উয়িদু কুমা বি কালিমাতিল্লাহিত্তাম্মাতি মিন কুল্লি শায়তানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ। অর্থ : আমি আশ্রায় প্রার্থনা করছি সকল প্রকার শয়তান থেকে। এবং আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি সকল খারাপ চোখ থেকে। (আল বুখারী ৪/১১৯) প্রত্যেক দিন সকালে ও সন্ধ্যায় বাসার বাহিরে যাওয়ার আগে আপনার সন্তানের উপর এই দোয়া পড়তে হবে। ২. কুরআনের শেষ তিনটি সুরা পড়ে দম করুন : সূরা আল-ইখলাস, সূরা আল-ফালাক এবং সূরা আন-নাস এই সুরাগুলো পড়ে আপনার সন্তানের উপর দম করুন। আশা করা যায় তারা সকল প্রকার খারাপ থেকে রক্ষা পাবে। একটি হাদিসে এসেছে, হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাত্রে যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতেন তখন তিনি দুই হাত একত্রিত করতেন এবং সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস পড়তেন অতঃপর হাতে দম করতেন এবং দুই হাত দিয়ে পুুরো শরীর মাহেস করতেন। এই কাজটি তিনি তিনবার করতেন (বুখারী)।

৩.আয়াতুল কদসী পড়ে দম করুন : হাদিসে আয়াতুল কুদসীর অনেক ফযীলত হসেছে। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুদসী পড়ে আপনার সন্তানের উপর দম করুন। আশা করা যায় আপনার সন্তান সকল প্রকার খারাপ থেকে বেঁচে থাকবে। উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বিয়্যুম লা তা’খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আলী (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাত প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে,প্রতিবেশির ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। (সুনানে বায়হাকী)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *