আজকে প্রথম তারাবী!! চলুন জেনে নেওয়া যাক তারাবীর নামাজ পড়ার নিয়মসমূহ

আজকে প্রথম তারাবী!! চলুন জেনে নেওয়া যাক তারাবীর নামাজ পড়ার নিয়মসমূহঃ

বুখারী হাদীস নং ১৮৮৩। ‘আবদুল্লাহ ইবনুূু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন , যে ব্যাক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় তারাবীহর সালাত (নামায/নামাজ) দাঁড়াবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।

হাদীসের রাবী ইবনুূু শিহাব (রহঃ) বলেন , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন এবং তারাবীহর ব্যাপারটি এ ভাবেই চালু ছিল। এমনকি আবূ বাকর (রাঃ) -এর খিলাফতকালে ও ‘উমর (রাঃ) -এর খিলাফতের প্রথম ভাগে এরূপই ছিল। ইবনুূু শিহাব (রহঃ)‘উরওয়া ইবনুূু যুবায়র (রহঃ) সূত্রে ‘আব্দুর রাহমান ইবনুূু ‘আবদ আল -ক্বারী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন , তিনি বলেন , আমি রমযানের এক রাতে ‘উমর ইবনুূুল খাত্তাব (রাঃ) -এর সঙ্গে মসজিদে নববীতে গিয়ে দেখতে পাই যে , লোকেরা বিক্ষিপ্ত জামায়াতে বিভক্ত। কেউ একাকী সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছে আবার কোন ব্যাক্তি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছে এবং তার ইকতেদা করে একদল লোক সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছে। ‘উমর (রাঃ) বললেন , আমি মনে করি যে , এই লোকদের যদি আমি একজন ক্বারীর (ইমামের )পিছনে একত্রিত করে দিই , তবে তা উত্তম হবে। এরপর তিনি উবাই ইবনুূু কা‘ব (রাঃ) -এর পিছনে সকলকে একত্রিত করে দিলেন। পরে আর এক রাতে আমি তাঁর [‘উমর (রাঃ) ] সঙ্গে বের হই। তখন লোকেরা তাদের ইমামের সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করছিল। ‘উমর (রাঃ) বললেন , কত না সুন্দর এই নতুন ব্যবস্থা! তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাক তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম যে অংশে তোমরা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় কর, এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুষিয়েছেন , কেননা তখন রাতের প্রথমভাগে লোকেরা সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করত।
আর তখন থেকেই উমর (রাঃ) এর নির্দেশে তারাবীহ নামাজ দুই রাকাত করে ২০রাকাত বা তারও বেশী পড়া প্রচলিত হয়।

লা-সাযহাবীদের অনেকেই শরীয়তের প্রমাণাদির পরিপন্হী এই বেদআতের প্রচলন করার জন্য অমূলক কথাগুলোর আশ্রয় নিয়ে বলে থাকে তারাবির নামাজ আট রাকাআত। বাস্থবে এর কোন সহীহ হাদীস এমনকি শরীয়তের কোন দলীল নেই।

সুতরাং লা-সাযহাবীদের অমূলক কথাগুলোর আশ্রয় নিয়ে কেউ ২০ রাকাতের কম তারাবীহের নামাজ পড়ে শরীয়ত বহির্ভূত কাজ করে নিজের ঈমান নষ্ট করবেননা।

একা তারাবীহ নামাজ পড়ার নিয়তঃ

نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر
উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তায়ালা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আমি কেবলামুখি হয়ে দু’রাকাত তারাবির সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের নিয়ত করছি; আল্লাহু আকবার।
জামাতে আদায়ের সময় এক্তাদাইতু বিহাজাল ঈমাম কথাটি যুক্ত করতে হবে।
তবে নিয়ত আরবিতেই করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বাংলাতেও করা যাবে।

তারাবীহ নামায-এ দু রাকাআত পর পর পড়ার দু’আঃ

তারাবীহ নামাজে দু রাকাআত পরপর এই দোয়াটি পড়ার প্রচলন রয়েছে।
هذا من فصل ربى يا كريم المعروف يا قديم الاحسان احسن الينا باحسانك القديم ثبت قلوبنا على دينك برحمتك يا ارحم الرحمين.

উচ্চারণ: হা-যা মিং ফাদ্বলি রব্বী ইয়া কারীমাল মা’রূফ, ইয়া ক্বদীমাল ইহসান, আহসিন ইলাইনা বি ইহসানিকাল ক্বদীম। ছাব্বিত ক্বুলূবানা আলা দীনিকা বিরহমাতিকা ইয়া আরহামার রহিমীন।

তারাবীহ নামায-এ চার রাকাআত পর পর পড়ার দু’আঃ

তারাবীহ নামাজে চার রাকাত পরপর এই দোয়াটি পড়ার প্রচলন রয়েছে।
سبحان ذى الملك والملكوت سبحان ذى العزة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروت . سبحان الملك الحى الذى لاينام ولا يموت سبوح قدوس ربنا ورب الملئكة والروح.
উচ্চারণ : ‘সুবহানাজিল মুলকি ওয়ালমালাকুতি সুবহানাজিল ইজ্জাতি ওয়াল আজমাতি ওয়ালহাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি; সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানুমু ওয়া লা ইয়ামুতু, সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাববুনা ওয়া রাব্বুন মালাইকাতি ওয়ার রূহ।’

অর্থ : আল্লাহ পবিত্রময় সাম্রাজ্য ও মহত্ত্বের মালিক। তিনি পবিত্রময় সম্মান মহত্ত্ব ও প্রতিপত্তিশালী সত্তা। ক্ষমতাবান, গৌরবময় ও প্রতাপশালী তিনি পবিত্রময় ও রাজাধিরাজ যিনি চিরঞ্জীব, কখনো ঘুমায় না এবং চির মৃত্যুহীন সত্তা। তিনি পবিত্রময় ও বরকতময় আমাদের প্রতিপালক, ফেরেশতাকুল এবং জিবরাইলের (আ.) প্রতিপালক।

তারাবিহ নামাজের মোনাজাতঃ

তারাবীহ নামাজের শেষে এই দোয়াটি পড়ার প্রচলন রয়েছে।
বাংলায়ঃ আল্লা-হুম্মা ইন্না নাস আলুকাল্ জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান্নারি ইয়া খালিকাল জান্নাতা ওয়ান্নারি বিরাহমাতিকা ইয়া আজীজু, ইয়া গাফ্ফারু, ইয়া কারীমু, ইয়া সাত্তারু, ইয়া রাহিমু ,ইয়া জাব্বারু ইয়া খালেকু, ইয়া রাররূ, আল্লাহুমা আজির না উয়া খাল্লিসনা মিনান্নারি, ইয়া মূজিরু, ইয়া মূজিরু, ইয়া মুজিরু, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *